বেহাল রাস্তার জন্য পঞ্চায়েত সদস্য নিজেদের দলের প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগে সরব

মালদা, রতুয়া:- সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে রতুয়া-১ ব্লকের মহাদেবপুর গ্রামের রাস্তা। দীর্ঘদিন রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ বেড়েছে এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সহ নিত্যযাত্রীদের। প্রায় ১ কিমি রাস্তা সংস্কারের দাবি তুললেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তা দ্রুত সংস্কার করার আশ্বাস গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের।

জানা গিয়েছে রতুয়া-১ ব্লকের পূর্ব রুকুন্দিপুর ও মহাদেবপুর গ্রামের প্রায় ১ কিমি রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানা খন্দে ভরেছে। সেই খানাখন্দ গুলো বর্ষার সময় রূপ নিয়েছে জলাশয়ের। যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাচল অযোগ্য। এই প্রসঙ্গে রতুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০৭ নাম্বার সংসদের তৃণমূল কর্মী সন্তোষ মন্ডল অভিযোগ করে বলেন প্রায় দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে এই রাস্তাটি, সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। এই রাস্তা হয়ে প্রতিদিন ভালুকা,দেবীপুর,ভাদো, সামসি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় কয়েক হাজার নিত্যযাত্রী যাতায়াত করেন। বেহাল রাস্তার ফলে বর্ষার সময় দীর্ঘ পথ ঘুরে তাদের যাতায়াত করতে হয়। তবে আমাদের গ্রামের মানুষজনদের এই রাস্তা ছাড়া কোন উপায় নেই। বসার সময় রাস্তার খানাখন্দ গুলো জলাশয় পরিণত হয়। যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে যাতায়াত করা যায় না। প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন আপাতত পায়ে হাটা চলার জন্য সু ব্যবস্থা করা হোক।পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামে পঞ্চায়েতের তরফ থেকে ইমারজেন্সি কাজের মাধ্যমে বালির বস্তা দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সেভাবে আমাদেরও হাটা চলার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্যবস্থা করা হোক।এই প্রসঙ্গে মহাদেবপুরের গ্রামবাসী রাজু মন্ডল জানান দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ধুঁকছে এই রাস্তাটি। কোন উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে শুরু করে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে বারবার জানানো হয়েছে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে নিত্যযাত্রী শেখ আবদুল হান্নান অভিযোগ করে বলেন বর্ষার সময় বাড়ি থেকে বেরোনো যায় না। খুব প্রয়োজনীয় কাজ না থাকলে বাড়ি থেকে বাইরে বের হয় না, বাড়ি থেকে বেরোলে পায়ের জুতো হাতে নিয়ে বের হতে হয়। কোন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে গেলে এলাকায় এম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। রোগীকে কিছুদূর ঘারে তুলে নিয়ে যেতে হয়। একই অভিযোগ তুলেছেন ওই গ্রামের যুবক শেখ রাজু তিনি জানান বাম জমানায় লাল মাটির রাস্তা তৈরি হয়েছিল, তারপর থেকে সংস্কারের জন্য এক ডালি মাটি পরে নি। ভোট আসে ভোট যায় শুধু মেলে প্রতিশ্রুতি। রাস্তা খারাপ থাকার ফলে বিশেষ করে অসুবিধার মুখে পড়তে হয় মহিলা ও ছোট ছোট শিশুদের।

এই প্রসঙ্গে ওই এলাকার ১০৭ নম্বর বুধের তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যে ফুরকুন মন্ডলের স্বামী সুরেশ মণ্ডল তিনি খোদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন এই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। নিত্যদিন কয়েকহাজার মানুষের যাতায়াত করেন। বাম জমানায় তৈরি হয়েছিল রাস্তা। তারপর থেকে কোন সংস্কার হয়নি। এই রাস্তা হয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। আমার নিজের বাড়ির সামনে এক হাটু কাদা। রাস্তায় খানাখন্দ থাকার ফলে পরিণত হয়েছে জলাশয়ের। আমাদের রতুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ আলমগীর রেজা চৌধুরীকে বারবার জানিয়েছি কিন্তু তিনি আমার কথা শুনছেন না। আমি চাই আপাতত বর্ষার সময় পায়ে হাঁটা চলাচলের জন্য বালির বস্তা দিয়ে অস্থায়ীভাবে কাজ করা হোক।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল পরিচালিত রতুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ আলমগীর রেজা চৌধুরী কে ধরা হলে তিনি জানান এন আর জি এস এর ইসকিমের মাধ্যমে রাস্তাটি ধরা হয়েছে, বর্ষা শুরু হয়েছে তাই কাজ করা যাচ্ছে না, কাজ থেমে রয়েছে, বর্ষা শেষ হলে দ্রুত কংক্রিট ঢালায়ের কাজ শুরু হবে। তবে আপাতত পায়ে হাঁটার জন্য অস্থায়ীভাবে বালির বস্তা দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *