চাঁচলে ফুটবল মাঠ রূপ ধারণ করছে পুকুরের, সংস্কারের দাবী এলাকাবাসীর

মালদাঃ- গোটা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কে.ম.কে ফুটবল মাঠ সংস্কারের অভাবে পরিনত হয়েছে ডোবায়। মাছের হিড়িকে কিশোররা খেলার বদলে মাঠ ধরছে মাছ।
মালদহের চাঁচল ১ নং ব্লকের মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মালচা ফুটবল মাঠটি এখন জলমগ্ন। বৃষ্টির জল জমে খেলার মাঠ বর্তমানে জলাশয়ে পরিপূর্ণ,মাছ ধরতে উদ‍্যোগী হচ্ছেন গ্রামের কিশোররা।

ঐতিহাসিক ওই ফুটবল মাঠটিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকাবাসী ক্রীড়ানূষ্ঠান করে থাকেন। শুধু খেলা নন। পাশে থাকা মালচা প্রাথমিক স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক শিক্ষিকার মাঠের জল দিয়েই স্কুলে প্রবেশ করতে হয়। যদিও লকডাউনে স্কুল বন্ধ রয়েছে। তবে খুললে সমস‍্যায় পড়তে হবে পড়ুয়াদের বলে জানান এলাকার এক শিক্ষিকা মামোনি খাতুন। তবে লকডাউন আবহে মিডডে মিলের চাল আলু নিতে আসতে বিপাকে পড়তে হয়েছে পড়ুয়ার অভিভাবকদেরও। তিনি মাঠটি সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী বাবুল হক জানান, এই মাঠ পেরিয়ে যেতে হয় ঈদগাহ,মাজার শরীফে। ঈদ উৎসব ও মাইয়াতের জানাজা পড়তে যেতেও থই থই জলের উপর দিয়ে চলতে হয়। সড়ক থেকে মাঠটি ঢালু রয়েছে। এবং নিকাশি ব‍্যবস্থাও অচল, এবং জল যেন না জমে পঞ্চায়েত প্রশাসনের কাছে এনআরইজিএস প্রকল্পের মাধ‍্যমে মাটি ভরাটের দাবী জানিয়েছেন বাবুল হক। মাঠ প্রান্তে রয়েছে স্কুল,মাজার ও ঈদগাহ। রাতের আধারেকোনো দুষ্কর্ম না ঘটে তাই একটি একটি উচ্চ বাতি স্তম্ভেরও দাবী জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

দরিয়াপুর আই বি হাইস্কুল থেকে শুরু করে এলাকার বেশ কয়েকটি প্রাথমিক ও বেসরকারী স্কুলগুলির বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের একমাত্র ভরসা এই মাঠটিই। এছাড়াও বাৎসরিক উরুষ মেলা ও নানান ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের একমাত্র মাঠ এটি বলে জানিয়েছেন দরিয়াপুর আইবি হাইস্কুলের শিক্ষক হারুন-অল রসিদ।
তিনি দাবী করে বলেন, ঐতিহ‍্য এই মাঠটি রক্ষা করতে পঞ্চায়েত প্রশাসনের কাছে সংস্কারের দাবী জানাচ্ছি।

যদিও মাঠটি কালিকাপুর, কৃষ্ণপুর ও মালচা এই তিনটি গ্রামের এই মাঠ। তবে মতিহারপুর অঞ্চলের সব গ্রামেরই খেলোয়াদের একমাত্র ভরসা। এবং এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সহ সবারই ইচ্ছা দিন শেষে মাঠের সবুজ দূর্বার উপর সময় কাটায়। তবে তা থই থই জলে অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, মালদা জেলা প্রাক্তন সভাধিপতি গৌতম চক্রবর্তী ও খরবা বিধানসভা প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক মহবুল হক এককালীন মাঠের সৌন্দর্য্যায়নের জন‍্য আর্থিক সাহায‍্য করেছিলেন। এমতাবস্থায় কোনো প্রশাসনের কর্তা সাহায্য করলে এলাকাবাসী তাদের মাঠটি রক্ষা করতে পারবন বলে মনে করছেন ক্রীড়া প্রেমীরা।

কে.ম.কে ফুটবল জলমগ্ন মুক্ত করতে দাবী জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রেমী থেকে শুরু করে শিক্ষক শিক্ষিকা সহ গোটা এলাকাবাসী।

ওই ফুটবল মাঠটিতে আমিও কয়েকবার অনুষ্ঠানে সামিল হয়েছি। মাঠটির সুস্থদশা ফেরাতে পঞ্চায়েত উদ‍্যোগী হবে এবং এন.আর.এই.জি.এস প্রকল্পের মাধ‍্যমে মাটি ভরাট করে মাঠটি রক্ষা করা যায় কিনা তা পঞ্চায়েত আলোচানা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পপি দাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *